ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ মে ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সর্বজনীন পেনশন স্কিম রেজিস্ট্রেশনে সিলেট বিভাগে এগিয়ে সিলেট সদর উপজেলা

আজকের বিনোদন
মে ১৬, ২০২৪ ৫:০১ অপরাহ্ণ । ১৬৬ জন
Link Copied!
দৈনিক আজকের বিনোদন সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মো. মতিউর রহমান, সিলেট থেকেঃ
সিলেট বিভাগে ৪৫টি থানা ও ৪১টি উপজেলার মধ্যে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সবচেয়ে বেশি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে সিলেট জেলার সিলেট সদর উপজেলা। এ পর্যন্ত সিলেট সদর উপজেলায় ১ হাজার ২ শত ৯ জনের পেনশন স্কিম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট জেলার ১৩ টি উপজেলা থেকে বেশ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে সিলেট সদর। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সিলেট জেলার  ওসমানীনগর উপজেলা ৫ শত ৭৯ জন, কানাইঘাট উপজেলা ৪ শত ৩১ জন, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা ৪ শত ৭৯ জন, গোয়াইনঘাট উপজেলা ৮ শত ৯৬ জন, বিশ্বনাথ উপজেলা ৩ শত ২৪ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা ৬ শত ৪৭ জন, জকিগঞ্জ উপজেলা ৪ শত ৬৪ জন, জৈন্তাপুর উপজেলা ৭ শত ৪৯ জন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ৫ শত ৭৭ জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ৪ শত ২৫ জন, বালাগঞ্জ উপজেলা ৪ শত ৪৮ জন ও বিয়ানীবাজার উপজেলা ৫ শত ৬৩ জন পেনশনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এ পর্যন্ত সিলেট জেলায় সর্বমোট ৭ হাজার ৯ শত ২০ জন সর্বজনীন পেনশনে স্কিমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন করেছেন। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সিলেট জেলায় সবথেকে পিছিয়ে রয়েছে বিশ্বনাথ উপজেলা। তাদের মাত্র ৩ শত ২৪ জন পেনশনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। তবে এ উপজেলায় সর্বজনীন পেনশন রেজিস্ট্রেশন দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা আক্তার।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলা বেশ এগিয়ে রয়েছে। সিলেট জেলায় ৭ হাজার ৯ শত ১৬ জন, মৌলভীবাজার জেলায় ১ হাজার ৩ শত ২৫ জন, সুনামগঞ্জ জেলায় ৬ হাজার ১ শত ৮৮ জন ও হবিগঞ্জ জেলায় ১ হাজার ৪ শত ৪ জন। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সর্বমোট ১৬ হাজার ৮ শত ৩৩ জন সর্বজনীন পেনশনে স্কিমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন করেছে। সর্বজনীন পেনশন রেজিস্ট্রেশনে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা সবথেকে পিছিয়ে রয়েছে। সিলেট জেলায় এ রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার পিছনে বড় অবদান রাখছে সিলেট বিআরটিএ অফিস। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন তারা প্রায় ১ হাজারের বেশি পেনশনারের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এ কার্যক্রম দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বেসরকারি চাকরিজীবী, ইমাম, শিক্ষক, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী, মধ্যবিত্ত শ্রেণী, মৎস্যজীবী, পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে দিনমজুর পর্যন্ত পেনশন স্কিমের আওতায় আনতে বেশ জুড়ে সুরে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন জনসাধারণ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনকে নিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের নানাবিধ উপকারিতা জানাতে ৭টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে অবহিতকরণ সভাসহ বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, ইমাম সমাবেশ, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম হেল্প ডেক্স স্থাপন, সকল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হেল্প ডেক্স স্থাপন এবং বিভিন্ন গ্রোথ সেন্টারে স্পট রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি বেগবান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সেইসঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যারা রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তাদেরকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরীন আক্তার জানান, সিলেট সদর উপজেলায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম রেজিস্ট্রেশনে যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তা নিশ্চয়ই আনন্দের। সেটি উৎসাহব্যঞ্জক। এই পর্যন্ত আমরা ১ হাজার ২ শত ৯ জন পেনশনারের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছি। সামনের দিনগুলোয় সর্বজনীন পেনশনে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। আমরা এই কার্যক্রমকে সফল করতে ইউনিয়ন ভিত্তিক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছি। মাসিক ও বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মীসহ এই কাজে সর্বাত্মভাবে সহযোগিতা করতেছেন। দেশের জনগণের গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই ও সুসংগঠিত সমাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে নির্ভশীলতার হার বৃদ্ধি পাবে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩’ পাস করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এ আইনের আলোকে গঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।