ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ মে ২০২৪
  • অন্যান্য

পুলিশের পৃথক অভিযানে দেশি বিদেশী অ-স্ত্র-বুলেট উদ্ধার ; অস্ত্র ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-৫

আজকের বিনোদন
মে ১৬, ২০২৪ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ । ১১ জন
Link Copied!
দৈনিক আজকের বিনোদন সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুহাম্মদ জুবাইর, টেকনাফ:

মায়ানমার থেকে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও বুলেট বাংলাদেশ অভ্যন্তরে এনে অপরাধী চক্রের কাছে হস্তান্তরের জন্য মওজুদের খবর পেয়ে উখিয়া-টেকনাফে পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশী জি-থ্রি রাইফেল, ২টি ওয়ান শুটার গান, ৭৭ রাউন্ড বুলেট এবং ২৪টি বুলেটের খোসা, ১টি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড তাজা বুলেট নিয়ে পেশাদার ডাকাত ও অস্ত্র ব্যবসায়ীসহ ৫জনকে গ্রেফতার করেছে।
১৬মে বিকাল ৪টারদিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসপি মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ রফিকুল ইসলাম, উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাসেলসহ পুলিশের অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইলেট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। এতে এসপি মোঃ মাহফুজুল ইসলাম জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কতিপয় দুর্র্ধষ ডাকাত ও অস্ত্র ব্যবসায়ী পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার হতে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও বুলেট দেশের অভ্যন্তরে এনে অপরাধীদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেলের নেতৃত্বে উখিয়া ও টেকনাফ পৃথক ২টি পুলিশের আভিযানিক টিমের সমন্বয়ে দল গঠন করে আগ্নেয়াস্ত্র-বুলেট উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়।
এরই ভিত্তিতে সংগৃহিত সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উখিয়া মাদারবুনিয়ার গহীন পাহাড়ে আসামীদের অবস্থান জানতে পেরে তাদের গ্রেফতারের জন্য টানা ৩-৪ ঘন্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে আসামীরা উখিয়ার জালিয়াপালং মাদারবুনিয়ার দুর্ধষ ডাকাত মোস্তাকের বাড়িতে অস্ত্র-বুলেটসহ অবস্থানের খবরে তাৎক্ষণিক দুর্ধষ ডাকাত মোস্তাকের বাড়ি ঘেরাও করে মাদারবনিয়ার মোঃ ছৈয়দের পুত্র মোস্তাক আহমদ ওরফে ডাকাত মোস্তাক (৩৭), তার স্ত্রী লতিফা আক্তার (৩৪), বড় মহেশখালীর মাঝের ডেইল গ্রামের আঞ্জু মিয়ার পুত্র অস্ত্র ব্যবসায়ী রবি আলম (২৮), উখিয়া মাদারবনিয়ার মৃত নুরুন্নবীর পুত্র কাশেম ওরফে মনিয়া (৩৮) কে গ্রেফতার করে বাড়ি হতে ২টি ওয়ান শুটার গান (এলজি), ৭৭ রাউন্ড বুলেট ও ২৪টি বুলেটের খোসা উদ্ধার করা হয়।
পলাতক আসামীদের আটক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য পালংখালী দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্র ব্যবসায়ী রবি আলমের আস্তানায় অভিযানে গেলে পুলিশের সাড়াঁশি অভিযান টের পেয়ে আসামীরা দফায় দফায় স্থান পরিবর্তন করে। দুর্গম পাহাড়ে ৩-৪ ঘন্টা অভিযানে পলাতক আসামীদের আটকের চেষ্টাকালে পুলিশে সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারে পলাতক আসামী বেলাল টেকনাফ এলাকা হতে পালিয়ে তার নিজ এলাকা মহেশখালীর দিকে চলে যাচ্ছে। আভিযানিক টীম উক্ত বেলালের পিছু নিয়ে ধাওয়া করতে থাকে এবং মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে অবহিত করে বিজিবির সহায়তায় বড় মহেশখালীর নতুন বাজারের আবুল হাসেমের পুত্র মোঃ বেল্লাল হোসেন (৩৮) কে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটক বেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দূর্গম পাহাড়ে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। ধৃত বেল্লাল এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে টেকনাফের বাহারছড়া সমুদ্র তীরবর্তী ঝাউ বাগানের মধ্যে অস্ত্র-বুলেট লুকিয়ে রাখার তথ্য দিলে গভীর রাতে আভিযানিক দল ছেপটখালি ঘাট থেকে মাছ ধরার নৌকায় করে খাল পার হয়ে শাপলাপুর এলাকায় সমুদ্র তীরবর্তী ঝাউ বাগানের মধ্যে ধৃত আসামী বেলালের দেখানো স্থানে বালির নিচে রাখা ১টি বিদেশী জি-থ্রি রাইফেল, ১টি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড তাজা বুলেট উদ্ধার করা হয়।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামীম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দুর্র্ধষ ডাকাত মোস্তাক একাধিক ডাকাতি, অস্ত্র, মাদক মামলার আসামী এবং তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। অস্ত্র ব্যবসায়ী রবি আলম দীর্ঘদিন যাবৎ পালংখালী এলাকায় দূর্ঘম পাহাড়ে অবস্থান করে অস্ত্র কেনা-বেচা চালিয়ে আসছে। তার নামে মহেশখালী থানায় একাধিক অস্ত্র, মাদক, অপহরণ ও খুনের মামলা রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওসমান গণি সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধ অস্ত্র-বুলেট উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতারে টানা ৩দিনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেল এর নেতৃত্বে উখিয়া ও টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করে এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে উখিয়া ও টেকনাফ মডেল থানায় অস্ত্র আইনে নিয়মিত ২টি মামলা রুজু করা হয়েছে। অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্রের অপর আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ৫জন আসামীদের অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আদালতে সোপর্দ করে ৫দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা ব্যক্ত করছি।