ঢাকাশনিবার , ৯ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় কালীগঞ্জে শত কোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি বেড়াতেন পথে

আজকের বিনোদন
মার্চ ৯, ২০২৪ ৫:০৭ অপরাহ্ণ । ২৩ জন
Link Copied!
দৈনিক আজকের বিনোদন সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে অভিনব কায়দায় শত কোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে একটি চিহ্নিত ভূমিখেকো চক্র। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ঘটনা ঘটলেও অদৃশ্য ইশারায় প্রশাসন রয়েছে নিরব।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলাধীন বালীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শরৎ চন্দ্র আচার্য তিন পুত্র সমরেন্দ্র আচার্য, সুরেন্দ্র আচার্য ও সচীন্দ্র আচার্যকে ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেন। পরে বালীগাঁও মৌজার সিএস ৩৫৪নং খতিয়ানের ৭৭৪, ৭৭৬নং দাগে ১.৩৫ একর, সিএস ২১৭নং খতিয়ানে ১.১১ একর, সিএস ২১৬নং খতিয়ানের ৮০৬নং দাগে ০.১১ একর ও সিএস ১১৪নং খতিয়ানে ৮০৫ ও ৭৭৭নং দাগে ০.৮৪ একর সম্পত্তি শরৎ চন্দ্রের তিনপুত্র ভাগবাটোয়ারা করে নেন। পরবর্তীতে সমরেন্দ্র আচার্য, সুরেন্দ্র আচার্য ও সচীন্দ্র আচার্যের নামে এসএ ২৩৮নং খতিয়ানের ৮৬৪, ৮৬৫ ও ৮০৬নং দাগে ১.২২ একর ও এসএ ১৬৮নং খতিয়ানের ৭৭৭ এবং ৮০৫নং দাগে ০.৮৪ একর সম্পত্তি রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে তিন পুত্রের মধ্যে সুরেন্দ্র আচার্য ও সচীন্দ্র আচার্য ১৯৬৫ সালে স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। সেখানে তারা নাগরিকত্ব নিয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তারা কেউ আর বাংলাদেশে ফিরে আসেনি। স্বাধীন দেশে সুরেন্দ্র আচার্য ও সচীন্দ্র আচার্যের রেখে যাওয়া সম্পত্তি আরএস রেকর্ডের ৬৮০, ১৪৬ ও ৬৬৪নং খতিয়ানে “অর্পিত সম্পত্তি” হিসেবে প্রদর্শিত হয় এবং হাল সাং ভারত উল্লেখ করা হয়। তাদের অপর ভাই সমরেন্দ্র আচার্য ২০১৩ সালে উক্ত “অর্পিত সম্পত্তি” দখল নিতে গেলে রাষ্ট্র পক্ষ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করে। উক্ত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অর্পিত সম্পত্তিতে এক সময় সরকারের হেলিপ্যাড ছিল এবং তা দখল নিতে না পেরে সমরেন্দ্র আচার্য উক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক বলে দাবি করেন।
সমরেন্দ্র আচার্যের দাবি অনুযায়ী তার অপর দুই ভাই সুরেন্দ্র আচার্য ও সচীন্দ্র আচার্য বাংলাদেশেই বসবাস করতো এবং নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। হিন্দু আইন অনুযায়ী নিঃসন্তান কোনো ভাই মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির মালিক হন জীবিত অপর কোনো ভাই। এই সূত্র ধরে সমরেন্দ্র আচার্য উক্ত সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন।
সমরেন্দ্র আচার্যের দাবির সমর্থনে কোনো কাগজপত্র তথা মৃত্যু সনদপত্র ও সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশ সনদপত্র উপস্থাপন না করা সত্বেও এডিসি গাজীপুরের নিকট হতে অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত উক্ত সম্পত্তি সমরেন্দ্র আচার্যের নামে নামজারী করার আদেশ অর্জন করেন এবং উক্ত সম্পত্তি তার নামে মিউটেশন করা হয়।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, শরৎচন্দ্র আচার্যের দুই পুত্র সুরেন্দ্র আচার্য ও সচীন্দ্র আচার্য বিগত ১৯৬৫ সালে ভারতে চলে যাওয়ার পর সেখানেই বসবাস এবং মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়াও সুরেন্দ্র আচার্য ৩ ছেলে ১ মেয়ে ও সচীন্দ্র আচার্য ৩ ছেলে ১ মেয়ে রেখে যান। সুরেন্দ্র আচার্য ও সচীন্দ্র আচার্য এর ছেলে মেয়েদের ওয়ারিশগণ তাহারা আর বাংলাদেশে ফিরে আসেন নাই। সেখানেই বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ ফারুক উদ্দিন আহমেদ সংবাদদাতাকে বলেন, সুরেন্দ্র আচার্যের বড় ছেলে ভুলু আচার্য, শচীন্দ্র আচার্যের বড় ছেলে বিজয় আচার্য, সমরেন্দ্র আচার্যের বড় ছেলে স্বর্ণকমল আচার্য আমার বাল্যবন্ধু ছিল এবং একসাথে কালীগঞ্জ পাইলট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। ১৯৬৫ সালে তারা ভারতে চলে যায় এবং আর কখনো ফিরে আসেনি। আমি চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় উক্ত জমিতে দুর্যোগ ও আপতকালীন সময়ের জন্য সরকারী খরচে হেলিপেড নির্মাণ করা হয়।
স্বর্ণকমল আচার্যের প্রতিবেশী ও কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফর রহমান বলেন, সুরেন্দ্র আচার্র্য, শচীন্দ্র আচার্য ও সমরেন্দ্র আচার্য স্বপরিবারে ১৯৬৫ সালে তারা ভারতে চলে যায়। তার পর থেকে তারা আর বাংলাদেশে ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে সরকার তাদের জমি অর্পিত জমি হিসেবে দুর্যোগ ও আপতকালীন সময়ের জন্য সরকারী খরচে হেলিপেড নির্মাণ করে। স্বর্ণকমল আচার্য ও তার ভাইয়েরা মামলাবাজ। তারা মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করে আসছে। স্বর্ণকমল গং দীর্ঘ ৫২ বছর যাবৎ হেলিপেড সহ এই অর্পিত সম্পত্তি দখলের জন্য যড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মহিলা কমিশনার শামীমা মুক্তা খুশি খানম বলেন, এই ভূমিখেকো চক্রের হোতা স্বর্ণকমল আচার্য বিভিন্ন জাল দলিলপত্র সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারি হেলিপেড ও সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এইসব সরকারি জমি তারা অন্য মানুষের কাছে বন্ধক দিয়ে টাকা নিচ্ছে। এমনকি অনেক জমি বিক্রিও করেছে। সাধারণ মানুষ ও সরকারের সাথে প্রতারণা করার জন্য এই প্রতারকের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।
কালীগঞ্জ মসলিন কটন মিলস্ এর সাবেক লেবার অফিসার ফজলুর রহমান দেওয়ান বলেন, সমরেন্দ্র আচার্যের বড় ছেলে স্বর্ণকমল আচার্য, সুরেন্দ্র আচার্যের বড় ছেলে ভুলু আচার্য ও শচীন্দ্র আচার্যের বড় ছেলে বিজয় আচার্য আমার সহপাঠী বন্ধু ছিল। ছাত্রাবস্থায় তাদের বালীগাঁওয়ের বাড়ীতে আমি বেড়ানোর জন্য যেতাম। ১৯৬৫ সালে তারা ভারতে চলে যায় এবং অদ্যবধি তারা এ দেশে ফিরে আসেনি।
কালীগঞ্জের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বাদল মিয়া বলেন, স্বর্ণকমল আচার্য ও তার ভাইয়েরা মামলাবাজ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তারা মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করে। স্বর্ণকমল গং দীর্ঘ ৫২ বছর যাবৎ চাচাদের রেখে যাওয়া অর্পিত সম্পত্তি দখলের জন্য অভিনব কায়দার পায়তারা করছে।